করোনাকাল ও পদোন্নতিতে ৩৩ (শিক্ষা ক্যাডার)


করোনাকাল ও পদোন্নতিতে ৩৩ (শিক্ষা ক্যাডার): একটি আবেদন

আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এজন্য যে পদোন্নতি অধিকার আদায়ের জন্য আমাকে আজ কলম ধরতে হচ্ছে। আমার নিজের ডিজাইন এবং ডেভলভডকৃত ওয়েবসাইট www.physicsplusict.com (যে ওয়েবসাইটে এই লেখাটি পড়ছেন) এ কন্টেন্ট আপলোড করার জন্য লেখালেখি বাদ দিয়ে আজ লিখতে হচ্ছে পদোন্নতি নামক সোনার হরিণের জন্য। আমি আজ সকালে লিখছিলাম অনার্স (পদার্থবিজ্ঞান) ৩য় বর্ষের সলিড স্টেট ফিজিক্স-১ এর ক্রিস্টাল কাঠামোর কিছু প্রশ্নের উত্তর, কিন্তু এখন আমাকে লিখতে হচ্ছে আমার পদের উন্নতির জন্য আমারই ওয়েবসাইটে। আমাকে লিখতে হচ্ছে যখন সময়ের দাবি ইউটিউব চ্যানেল (Physics Plus ICT)-এ ভিডিও ক্লাস লেকচার আপলোড করার কাজটি বাদ দিয়ে নিজের অধিকার আদায়ে। বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও এই কাজটি বড়ই কষ্টের, হৃদয়বিদারক এবং মর্যাদা-হানিকর কাজ। তবুও আমাকে লিখতে হবে।

আমার কয়েকজন বন্ধু অন্য ক্যাডারে যোগদান করে যথাসময়ে পদোন্নতি পেয়ে এখন সিনিয়ের স্কেলের সমস্ত সুবিধা ভোগ করছেন। আর আমি লিখছি তা পাবার আশায়। এই করোনাকালে অন্য ক্যাডার যার যার দায়িত্বে কর্তব্যরত থেকে যথাসময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন, অথবা পাবেন শীঘ্রই। শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে আমিও কিন্তু নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে এক চুলও ছাড় পাইনি। নিতে হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাস যা সাধারণ ক্লাসের চেয়ে বহুগুণ কষ্টের এবং পরিশ্রমের। মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লোভস পরেও কলমি-সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছি। ক্লাসের লেকচারের জন্য পূর্বপ্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে বেশি সময় ধরে। অল্প লিখেও বেশি বোঝানোর অক্লান্ত মানসিক চেষ্টা যা শারিরিক পরিশ্রমের চেয়ে কম কিসে? কী জানি ক্লাসের ফাকেও হয়ত মনে হবে আমি কিন্তু সময়মত সিনিয়র স্কেলে যেতে পাচ্ছি না, আবার হয়ত ভার্চুয়াল শান্তি পাব এই ভেবে: হোক না আমি কিন্তু জাতি গড়ার কারিগর। এই ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তাগণও হয়ত ফেইসবুকে নিউজফিডে খবর পড়েন তার এক ছাত্র/ছাত্রী অন্য-ক্যাডার-কর্মকর্তা হয়ে অল্প সময়ে তার চেয়েও উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। খবরটা একই সাথে আনন্দ এবং বেদনার মিশ্র অনুভুতির জন্ম দিবে নিশ্চয়ই। তারপরেও তার কলম নামক শক্তিশালী অস্ত্রটি থামেনি এতটুকু।

প্রতি পদে পদে বঞ্চিত হয়ে আজ প্রতিটি শিক্ষা ক্যাডারের হৃদয়ে যে বিষাদ জন্ম নিয়েছে তা একত্রিত করে বঙ্গোপসাগরে ঢেলে দিলে সাগরের লবাণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ হয়ত সমুদ্র তার ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলতে পারে (রুপক অর্থে) যা আজ নিজে বঞ্চিত হয়ে বুঝতে পারছি হাড়ে হাড়ে। সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিতকরণ, গ্রেড-৪ পর্যন্ত সীমাবদ্ধকরণ, মোবাইল-ইন্টারনেট বিল থেকে শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূতকরণ ইত্যাদি কয়েকটি তার নমুনামাত্র। গাড়ি-বাড়ির সুবিধা সেতো সোনার হরিণ।

“বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১ এর বিধি ৫(বি)” এই বিধিটি অনুসরণ করে ক্যাডার কর্মকর্তাদের সিনিয়র স্কেলে পদোন্নতি দেয়া হয়ে থাকে। এই বিধি অনুযায়ী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ৩৩-ব্যাচ সহ যোগ্য অন্য সকল কর্মকর্তাগণের সিনিয়র স্কেলে যাবার কথা। কিন্তু বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয় শুন্য পদে যা নিয়ম বহির্ভূত, বিধির লঙ্ঘন এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য সৃষ্টির এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একজন ক্যাডার কর্মকর্তা (৩৩-ব্যাচ) হয়ে তা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অন্যান্যদের মত আমিও পাঁচ বছর ধরে এই সার্ভিসে আছি, বিভাগীয় পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমার চাকুরি স্থায়ীকরণ হয়েছে। আমাকে ন্যায্য পাওনাটুকু দিলে সরকারের তো কোনো ক্ষতি হবার কথা নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে। করোনার মত মহামারী মোকাবেলায় উন্নত বিশ্ব যেখানে টালমাটাল, সেখানে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এই মহামারী মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে করোনা-যুদ্ধকে সামাল দিচ্ছে ভালাবেই। সর্বস্তরের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন। নিঃসন্দেহে আমরাও আছি সেই যুদ্ধের কোনো এক কাতারে। আমরাও অনলাইন ক্লাস নিচ্ছি। অনলাইন ক্লাস, ইউটিউবে ভিডিও ক্লাস লেকচার না দিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হয়ত অলসভাবে সময় কাটাতে কাটাতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেত। সকল সরকারি কলেজের উদ্যোগে অনলাইন লাইভ ক্লাস নেয়া হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের বাসায় থাকতে সহায়তা করছে। তাহলে আমি বা আমরা কেন বঞ্চিত হব পদোন্নতির সুবিধা থেকে।

হানিফ সংকেতের ভাষায় তাই আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এই বৈষম্য দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

প্রভাষক, পদার্থবিদ্যা

সরকারি শাহ্‌ সুলতান কলেজ, বগুড়া

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা (৩৩-তম ব্যাচ)

One response to “করোনাকাল ও পদোন্নতিতে ৩৩ (শিক্ষা ক্যাডার)”

  1. Md Delowar says:

    ন্যায্য দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.